আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় টানা ষষ্ঠ রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও চাবাহারসহ বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি আবাসিক ভবন, বিমানবন্দর ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন।
ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, হামলার পর একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালীতে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেওয়ার দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী।
এর জবাবে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। ইরান আরও সতর্ক করেছে, সংঘাত বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তার ভাষ্য, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সামরিক উত্তেজনা চললেও তেহরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সমঝোতার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
বাব আল-মানদেব প্রণালী বন্ধের হুঁশিয়ারি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ
হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনার মধ্যেই এবার লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালী বন্ধের হুঁশিয়ারি সামনে এসেছে।
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা চালালে ইয়েমেনের হাউথি বিদ্রোহীদের বাব আল-মানদেব প্রণালী বন্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে তেহরান।
এদিকে হাউথি নেতা আব্দুল মালিক আল-হাউথি সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ ও বাব আল-মানদেব—দুই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট একসঙ্গে ঝুঁকিতে পড়লে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
জিমেইলঃ sadhinnews.info@gmail.com
♦️স্বাধীন নিউজে আপনাকে স্বাগতম ♦️
www.sadhinnews.com